মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৫ এপ্রিল ২০২০

ইতিহাস

 

   জন্ম সনদ একটি শিশুর অধিকার রক্ষাকবচ। জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের অনুচ্ছেদ ৭ অনুযায়ী, “শিশুর জন্মগ্রহণের পর জন্ম-নিবন্ধীকরণ করতে হবে । জাতীয়তা অর্জন, নামকরণ এবং পিতামাতার পরিচয় জানবার এবং তাদের হাতে পালিত হবার অধিকার আছে ।” ১৮৭৩ সালের ২রা জুলাই তদানীন্তন বৃটিশ সরকার অবিভক্ত বাংলায় জন্ম নিবন্ধন সংক্রান্ত আইন জারী করে। কালের পরিক্রমায় ১১৮ বৎসরে ভৌগোলিক, রাজনৈতিক ও সেই সঙ্গে আইনের নানান পরিবর্তন সত্ত্বেও দেশের তাবৎ মানুষ জন্ম নিবন্ধনের আওতায় না আসায় ২০০১-২০০৬ সালে ইউনিসেফ-বাংলাদেশ এর সহায়তায় পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ২৮টি জেলায় ও ৪টি সিটি কর্পোরেশনে জন্ম নিবন্ধনের কাজ নতুনভাবে আরম্ভ হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৮৭৩ সালের আইন রদ ও রহিত করে সরকার ২০০৪ সনের ৭ ডিসেম্বর ২৯ নং আইন অর্থাৎ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ প্রবর্তন করে। আইনটি ২০০৬ সালের ৩ জুলাই হতে কার্যকর হয়। ২০০১-২০০৬ সালের পাইলট প্রকল্পের শেষে প্রকল্পটি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন প্রকল্প (২য় পর্যায়) নামে ২০০৭ সালে আরম্ভ হয়ে জুন ২০১২ সালে শেষ হয়। বর্তমানে প্রকল্পটির ৩য় পর্যায়ের কার্যক্রম জুলাই ২০১২ থেকে শুরু হয়ে ২০১৬ সালের জুন মাসে শেষ হয় । প্রকল্পটির আর্থিক সহায়তাকারী সংস্থা ইউনিসেফ-বাংলাদেশ।সারাদেশে ১৬কোটি ৮৮ লক্ষের  অধিক লোকের জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে সারাদেশে ১২ টি সিটি কর্পোরেশনের ১২৪টি আঞ্চলিক অফিস , ৩২৯ টি পৌরসভা, ৪৫৭৩ টি ইউনিয়ন পরিষদ, ১৫টি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড ও ৪৪ টি দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের ৫৫ টি দূতাবাস / মিশনসহ  মোট ৫১০৭টি নিবন্ধক অফিসে বর্তমানে সরাসরি ও নিয়মিত যোগাযোগ সমন্বয় করে অনলাইনে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের কার্যক্রম চলছে।Real Time BR Data লিঙ্ক-এ যেয়ে দেশের তাৎক্ষণিক অনলাইন জন্ম নিবন্ধনের সংখ্যা দেখা যাবে। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম অব্যাহত, গতিশীল এবং দেশের নাগরিকদের জন্ম ও মৃত্যুর একটি স্থায়ী ডাটাবেজ সংরক্ষণ রাখার স্বার্থে সরকার ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিদ্যমান জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইনের সংশোধন করে রেজিস্ট্রার জেনারেল, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধক অফিস স্থাপন করা হয়েছে।

•ইতোপূর্বে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের কার্যক্রম এতদবিষয়ক একটি প্রকল্পের মাধ্যমে সম্পাদিত হতো। বিভিন্ন পর্যায়ে উক্ত প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির পর গত ৩০ জুন, ২০১৬ তারিখে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয় ।বর্তমান সরকার এর সময়ে ০১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ তারিখে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন প্রতিষ্ঠিত হয়। 

কার্যাবলি (Functions):

 

  • দেশের সকল ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড, বিদেশে অবস্থিত মিশনসমূহের নিবন্ধকগণের নিকট জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সংশ্লিষ্ট সকল ফরম সরবরাহ নিশ্চিতকরণ;
  • নিবন্ধক কার্যালয়সমূহ পরিদর্শন;
  • নিবন্ধন  সম্পর্কে গণসচেতনতা বৃদ্ধি কর্মসূচি গ্রহণ;
  • তথ্য প্রযুক্তি বা অধিকতর উন্নত পদ্ধতির সাহায্যে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন তথ্য সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, স্থাপন ও সংরক্ষণ এবং এতদসংক্রান্ত কার্যপ্রণালি প্রণয়ন ও উন্নতকরণ;
  • জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন তথ্যাদি আদান প্রদানের জন্য দেশি, বিদেশি, সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে আমত্মঃ তথ্যপ্রবাহ চুক্তি সম্পাদন এবং তথ্য আদান প্রদানের জন্য কারিগরি কার্যাদি সম্পাদন;
  • নিবন্ধক ও উক্ত কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্ম নিবন্ধন কাজে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্তকরণ ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান;
  • যে সকল ক্ষেত্রে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সনদের আবশ্যকতা রয়েছে তদসংশ্লিষ্ট সকল সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান;
  • বাজেট প্রণয়ন, তহবিল সংগ্রহ, বিতরণ এবং নিরীক্ষাসহ আর্থিক জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ;
  • আইনের ধারা ১৫ ও ১৫ ক এ বর্ণিত পদ্ধতিতে নিবন্ধন বহি এবং জন্ম বা মৃত্যু সনদ সংশোধনের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা প্রদান এবং ক্ষেত্র বিশেষে নিবন্ধন সনদ বাতিলকরণ সংক্রান্ত বিষয়াদি তত্ত্বাবধান;
  • আইন, বিধি এবং সরকারী নির্দেশে অন্যান্য কার্যাবলী।

 


Share with :

Facebook Facebook